বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রক্ষা: একটি কেস স্টাডি
কেস স্টাডি: বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন ২০১৯[1] এর প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখা
২০১৯ সালে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন প্রবর্তন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল জাতীয় নৌপরিবহন খাতকে শক্তিশালী করা। আইন অনুযায়ী দেশে আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য কার্গোর ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ দ্বারা পরিবহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্থানীয় সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য থাকলেও, প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, নীতিটি বাণিজ্য কার্যকারিতা ও ব্যয় কাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। [2][9][25]
বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানো, জাতীয় পতাকাবাহী নৌ-পরিবহন সংস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে আইনটি সদিচ্ছাপ্রসূতভাবে প্রণয়ন করা হয়। তবে বর্তমানে দেশীয় জাহাজ বহরের ধারণক্ষমতা কন্টেইনার কার্গোর এত বড় অংশ পরিবহন করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ২০২৩ সালে বাংলাদেশি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র আটটি। যদিও ২০২৮ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়টি নতুন জাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, মোট কন্টেইনার কার্গোর ৫০ শতাংশ পরিবহনের লক্ষ্য পূরণের জন্য এটি প্রয়োজনীয় সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম[7]। এই সক্ষমতা ঘাটতি সময়বিশেষে কিছু বাণিজ্য রুটে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে বিশেষত তৈরি পোশাক (RMG) খাতে, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০% এরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে[24][19]।
২০২৩ সালে বাংলাদেশি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮টি [7] যা দেশের মোট কার্গো/ পন্য্যের পরিমাণের ৫০% পরিবহনের প্রয়োজনীয়তার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অপর্যাপ্ত

উল্লেখ্য যে, বন্দর অবকাঠামোর আরও আধুনিকায়নের মাধ্যমে অধিকতর প্রবৃদ্ধির পথে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে। নীতিগত সংস্কার এবং দেশীয় জাহাজ বহর সম্প্রসারণে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) ভিত্তিক প্রণোদনা জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে আরও কার্যকর সামঞ্জস্য স্থাপনে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়ন [22], শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটালকরণ [34] এবং আঞ্চলিক নৌ পরিবহন সহযোগিতা জোরদার করা [35]বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেমের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
Iদক্ষতা, গতিশীলতা এবং জলবায়ু দায়বদ্ধতা দ্বারা সংজ্ঞায়িত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রপ্তানি খাতের শক্তিমত্তা সংরক্ষণ করার পাশাপাশি নৌ পরিবহণ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সমর্থন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্মুক্ত ও সুসংগঠিত লজিস্টিকস কাঠামো বজায় রাখা শুধু নৌপরিবহন শিল্পের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সামুদ্রিক নৌ পরিবহণ লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে বাজার বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। কন্টেইনার পরিবহন অপারেটররা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন সর্বোত্তম করার চাপের মুখে থাকলেও, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা জাহাজ চলাচল সময়সূচি এবং ব্যয় কাঠামো পূর্বেই জানার প্রত্যাশা রাখেন।[32][25]
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু কন্টেইনার পরিবহণ অপারেটর চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছেন[10], যা সম্ভাব্যভাবে পণ্য মাশুলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে [2]। এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিদেশি জাহাজের জন্য ওয়েভার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক জটিলতা, শিপমেন্ট সময়সূচি ও ট্রান্সশিপমেন্ট রুটে সম্ভাব্য প্রভাব বিশেষত কলম্বো হয়ে, যা আন্তর্জাতিক পোশাক লজিস্টিকসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, পরিচালিত রুটে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। [25]
Stay informed and join the collective voice
এই নিবন্ধটি পড়ুন
বাংলাদেশ সরকার প্রবর্তিত বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১ একটি উচ্চাভিলাষী জাতীয় উন্নয়ন রূপরেখা, যার লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ-আয়ের উন্নত দেশে উন্নীত করা।
বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১

এই নিবন্ধটি পড়ুন
বাংলাদেশেরপতাকাবাহীজাহাজপরিবহনআইনকীভাবেপোশাকশিল্পকেব্যাহতকরছে।
কেসস্টাডি: বাংলাদেশেরপতাকাবাহীজাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯

এই নিবন্ধটি পড়ুন
কেসস্টাডি: বাংলাদেশেরপতাকাবাহীজাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন২০১৯
বাণিজ্যিকপ্রতিযোগিতামূলকসক্ষমতারক্ষা: একটিকেসস্টাডি

ইনসাইট হাব